লিভার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
লিভার বা যকৃৎ আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অঙ্গ এবং একটি অত্যন্ত পরিশ্রমী "কারখানা"। এটি একসাথে ৫০০-এরও বেশি কাজ করে — রক্ত পরিশোধন, হজমে সাহায্যকারী পিত্ত তৈরি, প্রোটিন ও গ্লাইকোজেন সংশ্লেষণ, এবং বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেওয়া।
বাংলাদেশে লিভারের রোগ অত্যন্ত সাধারণ — হেপাটাইটিস বি এবং সি, ফ্যাটি লিভার, এবং অ্যালকোহলজনিত লিভার রোগ লক্ষ লক্ষ মানুষকে আক্রান্ত করছে। তাই লিভারের স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
LFT বা Liver Function Test কী?
Liver Function Test (LFT) হলো একটি রক্ত পরীক্ষার প্যানেল যা লিভারের কার্যকারিতা এবং ক্ষতির মাত্রা মূল্যায়ন করে। এক পরীক্ষায় একাধিক এনজাইম ও প্রোটিনের মাত্রা একসাথে দেখা যায়।
LFT রিপোর্টে কী কী থাকে?
একটি সম্পূর্ণ LFT রিপোর্টে সাধারণত নিচের পরিমাপগুলো থাকে:
- SGPT / ALT — লিভার কোষের ক্ষতির প্রধান সূচক। বাড়লে লিভারের প্রদাহ বা ক্ষতির ইঙ্গিত। SGPT পরীক্ষার মূল্য দেখুন।
- SGOT / AST — লিভার ও হৃদপেশির ক্ষতি নির্দেশ করে।
- Alkaline Phosphatase (ALP) — পিত্তনালির সমস্যায় বাড়ে।
- Bilirubin (Total & Direct) — জন্ডিসের কারণ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বেড়ে গেলে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়।
- Total Protein & Albumin — লিভারের প্রোটিন তৈরির ক্ষমতা বোঝায়।
- GGT (Gamma GT) — অ্যালকোহল বা ওষুধজনিত লিভার সমস্যায় বাড়ে।
কখন LFT করাবেন?
ডাক্তার সাধারণত নিচের কারণে LFT দেন:
- চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
- পেটের ডান পাশে ব্যথা বা অস্বস্তি
- অকারণে ক্লান্তি, বমি বমি ভাব বা ক্ষুধামন্দা
- দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে
- হেপাটাইটিস বি বা সি পজিটিভ রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে
- ডায়াবেটিস বা স্থূলতা থাকলে ফ্যাটি লিভার স্ক্রিনিংয়ে
- বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে
LFT পরীক্ষার আগে কী করবেন?
LFT পরীক্ষার জন্য সাধারণত ৮–১২ ঘণ্টা খালি পেটে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ খাবার কিছু এনজাইমের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে। পরীক্ষার আগে পানি পান করা যাবে। কোনো ওষুধ খেলে ডাক্তারকে আগে জানান।
বাংলাদেশে LFT পরীক্ষার খরচ
LFT একটি প্যানেল পরীক্ষা হওয়ায় এর খরচ একক পরীক্ষার চেয়ে বেশি। তবে সব পরীক্ষা আলাদা আলাদা করার চেয়ে প্যানেলে করলে সাশ্রয়ী হয়। MedTestBD-তে LFT পরীক্ষার সর্বশেষ মূল্য তুলনা করুন এবং কাছের সাশ্রয়ী ল্যাব খুঁজে নিন।
লিভার সুস্থ রাখতে কী করবেন?
- প্রচুর পানি পান করুন।
- তৈলাক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খান।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যথানাশক বা সাপ্লিমেন্ট খাবেন না।
- হেপাটাইটিস বি-র টিকা নিন যদি না নেওয়া থাকে।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
লিভার নিজে নিজে সুস্থ হওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে — তাই সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।