কিডনি কী করে?
আমাদের দুটি কিডনি প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার রক্ত পরিশোধন করে, বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, এবং রক্তে লবণ ও খনিজের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিডনির সমস্যা ধীরে ধীরে হয় — ৬০–৭০% কার্যক্ষমতা না কমা পর্যন্ত সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই নিয়মিত পরীক্ষাই একমাত্র সমাধান।
কিডনি সমস্যার সতর্কসংকেত
- পা, গোড়ালি বা মুখ ফুলে যাওয়া
- প্রস্রাব কম হওয়া বা ফেনাযুক্ত প্রস্রাব
- রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব
- রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা
- অতিরিক্ত ক্লান্তি ও রক্তস্বল্পতা
- উচ্চ রক্তচাপ যা ওষুধে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না
- পিঠের নিচে বা পাঁজরের নিচে ব্যথা
কিডনি পরীক্ষার জন্য কোন টেস্টগুলো করাবেন?
১. Serum Creatinine
Serum Creatinine কিডনির কার্যক্ষমতা মাপার সবচেয়ে সাধারণ পরীক্ষা। Creatinine হলো মাংসপেশির স্বাভাবিক বিপাকে তৈরি একটি বর্জ্য পদার্থ যা কিডনি রক্ত থেকে ফিল্টার করে। কিডনি দুর্বল হলে Creatinine রক্তে জমতে থাকে।
- স্বাভাবিক (পুরুষ): ০.৭–১.৩ mg/dL
- স্বাভাবিক (মহিলা): ০.৬–১.১ mg/dL
২. Blood Urea Nitrogen (BUN)
BUN পরীক্ষা রক্তে ইউরিয়ার পরিমাণ মাপে। প্রোটিন বিপাকের সময় ইউরিয়া তৈরি হয় যা কিডনি ফিল্টার করে। BUN এবং Creatinine একসাথে দেখলে কিডনির অবস্থা আরও ভালো বোঝা যায়।
৩. Urine R/E (Routine Examination)
Urine R/E বা Urine Routine Examination প্রস্রাবে প্রোটিন, রক্ত, গ্লুকোজ, এবং সংক্রমণের চিহ্ন পরীক্ষা করে। প্রস্রাবে প্রোটিন আসা (Proteinuria) কিডনি ক্ষতির প্রাথমিক এবং গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
৪. Serum Electrolytes
Serum Electrolyte পরীক্ষায় রক্তে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড এবং বাইকার্বোনেটের মাত্রা দেখা হয়। কিডনি এই খনিজগুলোর ভারসাম্য রক্ষা করে — অস্বাভাবিক মাত্রা কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
কারা নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করাবেন?
ডায়াবেটিস রোগীরা (কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় কারণ), উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা, পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে, দীর্ঘমেয়াদী ব্যথানাশক ওষুধ খেলে, এবং বয়স ৬০-এর বেশি হলে — বছরে একবার Creatinine ও Urine R/E অবশ্যই করান। কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ এবং সফল হয়।