✍️ Written by the MedTestBD Editorial Team · Last reviewed: July 2026
ECG কী এবং কেন করা হয়?
ECG বা Electrocardiogram একটি সহজ, ব্যথামুক্ত পরীক্ষা যা হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে। হৃৎপিণ্ড যখন স্পন্দিত হয়, তখন বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয় — ECG এই সংকেতগুলো একটি গ্রাফে প্রদর্শন করে। এই গ্রাফ দেখে ডাক্তার বুঝতে পারেন হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কিনা।
বাংলাদেশে ECG সবচেয়ে বেশি করা হয় বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হলে এবং যেকোনো অপারেশনের আগে pre-operative checkup হিসেবে। এটি দ্রুত (মাত্র ৫-১০ মিনিট) এবং কোনো ইনজেকশন বা রক্ত নেওয়া ছাড়াই করা যায়।
বাংলাদেশে ECG টেস্টের দাম ২০২৬
বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ECG-র দাম উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা। সরকারি হাসপাতালে মাত্র ৭০-১০০ টাকায় হয়, আর বেসরকারিতে ২২৫-৫০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।
| হাসপাতাল / ডায়াগনস্টিক সেন্টার | ECG দাম (BDT) | ধরন |
|---|---|---|
| PG Hospital (BSMMU) | 100 | সরকারি |
| NILMRC | 70 | সরকারি |
| NICVD | 70 | সরকারি |
| Ibn Sina Diagnostic Center | 225 | Discounted |
| Epic Health Care, Chittagong | 338 | Discounted |
| BIRDEM (Ibrahim Cardiac) | 380 | Regular |
| Parkview Hospital, Chittagong | 380 | Regular |
| Aalok Healthcare, Mirpur | 450 | Regular |
| Chevron Clinical Laboratory | 450 | Regular |
| Popular Diagnostic Center | 500 | Regular |
| Evercare Hospital | 500 | Regular |
| Labaid Diagnostics | 500 | Regular |
সবচেয়ে সাশ্রয়ী: সরকারি হাসপাতাল (PG Hospital, NILMRC, NICVD) — ৭০-১০০ টাকায়। বেসরকারিতে Ibn Sina সবচেয়ে কম — মাত্র ২২৫ টাকায় (Discounted rate)।
ECG কখন করাতে হয়?
- বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব — হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা নাকচ করতে
- শ্বাসকষ্ট — হৃৎপিণ্ডের সমস্যা কারণ কিনা জানতে
- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (palpitation) — Arrhythmia শনাক্ত করতে
- মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া — হার্টের সাথে সম্পর্ক আছে কিনা জানতে
- অপারেশনের আগে — pre-operative cardiac assessment হিসেবে
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী — নিয়মিত হার্ট চেকআপের অংশ হিসেবে
- ৪০ বছরের পর নিয়মিত — routine health checkup হিসেবে
ECG কীভাবে করা হয়?
ECG করা সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত। রোগীকে শুয়ে থাকতে হয়, তারপর বুকে, হাতে এবং পায়ে ছোট ছোট ইলেকট্রোড (স্টিকার বা সাকশন কাপ) লাগানো হয়। এই ইলেকট্রোডগুলো হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত রেকর্ড করে একটি ECG মেশিনে পাঠায়। পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র ৫-১০ মিনিট সময় নেয় এবং রিপোর্ট সাথে সাথেই পাওয়া যায়।
ECG-র আগে কোনো প্রস্তুতি লাগে?
ECG-র জন্য সাধারণত কোনো বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। তবে কিছু বিষয় মনে রাখুন:
- পরীক্ষার আগে লোশন, তেল বা ক্রিম বুকে লাগাবেন না — ইলেকট্রোড ঠিকমতো লাগতে সমস্যা হয়
- ঢিলেঢালা পোশাক পরে যান
- পরীক্ষার ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম করবেন না
- চা বা কফি পরীক্ষার ফলাফলে সাধারণত প্রভাব ফেলে না, তবে ডাক্তার নির্দেশ দিলে এড়িয়ে চলুন
ECG রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন?
ECG রিপোর্টে কয়েকটি wave দেখা যায় — P wave, QRS complex এবং T wave। এগুলো হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন অংশের কার্যকলাপ দেখায়। Normal sinus rhythm মানে হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। রিপোর্টে যদি লেখা থাকে "abnormal" বা কোনো specific pattern — সেটা ডাক্তারকে দেখিয়ে ব্যাখ্যা নিন। ECG রিপোর্ট নিজে interpret করার চেষ্টা না করাই ভালো।
ECG কি সব হার্টের সমস্যা ধরতে পারে?
না — ECG শুধু পরীক্ষার সময়ের হৃৎপিণ্ডের অবস্থা দেখায়। কিছু সমস্যা intermittent হয় (মাঝে মাঝে হয়, সবসময় নয়) — সেক্ষেত্রে ECG normal আসতে পারে। তখন ডাক্তার Holter Monitor (২৪ ঘণ্টা ECG) বা Echo (Echocardiogram) করার পরামর্শ দিতে পারেন। ECG হলো প্রথম পদক্ষেপ — সম্পূর্ণ cardiac evaluation-এর একটি অংশ।
⚠️ This information is for general reference only. Always consult a qualified physician before undergoing any medical test.