বাংলাদেশে ডায়াবেটিস কতটা সাধারণ?
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত — এবং আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ জানেনই না যে তাদের ডায়াবেটিস আছে। ডায়াবেটিস একটি নীরব রোগ — প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে, তাই নিয়মিত পরীক্ষাই একমাত্র উপায় সময়মতো শনাক্ত করার।
ডায়াবেটিস সন্দেহ হলে যে লক্ষণগুলো দেখবেন
- ঘন ঘন প্রস্রাব, বিশেষত রাতে
- অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও পানি পানের ইচ্ছা
- কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া
- ক্ষত বা কাটা সারতে দেরি হওয়া
- দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
- হাত-পায়ে অবশ বা ঝিনঝিন অনুভব
- অতিরিক্ত ক্লান্তি
ডায়াবেটিস নির্ণয়ে কোন পরীক্ষাগুলো করাবেন?
১. Fasting Blood Sugar (FBS)
FBS পরীক্ষায় সকালে খালি পেটে (৮–১২ ঘণ্টা না খেয়ে) রক্তের গ্লুকোজ মাপা হয়। এটি ডায়াবেটিস স্ক্রিনিংয়ের সবচেয়ে প্রচলিত পরীক্ষা।
- স্বাভাবিক: ৭০–১০০ mg/dL
- Pre-diabetes: ১০০–১২৫ mg/dL
- ডায়াবেটিস: ১২৬ mg/dL বা তার বেশি (দুটি আলাদা পরীক্ষায় নিশ্চিত হলে)
২. Random Blood Sugar (RBS)
RBS দিনের যেকোনো সময় করা যায় — খালি পেটে থাকার দরকার নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে বা উপসর্গ থাকলে এই পরীক্ষা দ্রুত করা হয়।
- স্বাভাবিক: ১৪০ mg/dL-এর নিচে
- ডায়াবেটিস সন্দেহ: ২০০ mg/dL বা তার বেশি এবং উপসর্গ থাকলে
৩. HbA1c (Glycated Hemoglobin)
HbA1c পরীক্ষা গত ২–৩ মাসের গড় রক্তের শর্করার মাত্রা দেখায়। এটি ডায়াবেটিস নির্ণয় এবং দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং দুটোতেই ব্যবহার হয়। খালি পেটে থাকার প্রয়োজন নেই।
- স্বাভাবিক: ৫.৭%-এর নিচে
- Pre-diabetes: ৫.৭%–৬.৪%
- ডায়াবেটিস: ৬.৫% বা তার বেশি
ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত যে পরীক্ষাগুলো করাতে হয়
ডায়াবেটিস একবার ধরা পড়লে নিচের পরীক্ষাগুলো নিয়মিত করানো জরুরি:
- HbA1c — প্রতি ৩ মাসে (চিকিৎসা নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণে)
- LFT — বার্ষিক (কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধ লিভারে প্রভাব ফেলতে পারে)
- Serum Creatinine — বার্ষিক (কিডনির স্বাস্থ্য পরীক্ষা)
- Lipid Profile — বার্ষিক (ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি)
- Urine R/E — বার্ষিক (কিডনির প্রাথমিক ক্ষতি শনাক্তে)
কারা নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাবেন?
পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে, ওজন বেশি হলে, বয়স ৪৫-এর বেশি হলে, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়ে থাকলে, বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে — বছরে অন্তত একবার FBS বা HbA1c পরীক্ষা করান। ডায়াবেটিস প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামে পরিবর্তন এনেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।