হার্টের সমস্যা বোঝার জন্য কোন পরীক্ষাগুলো করাবেন?

বাংলাদেশে হৃদরোগের পরিস্থিতি

বাংলাদেশে হৃদরোগ এখন মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট ফেইলিওরের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অথচ সঠিক সময়ে পরীক্ষা করালে হৃদরোগ প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা অনেকক্ষেত্রেই সম্ভব।

হার্টের সমস্যার লক্ষণ কী কী?

  • বুকে চাপ, ব্যথা বা ভার অনুভব — বিশেষত পরিশ্রমের সময়
  • বাম হাত, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
  • অল্পতেই শ্বাসকষ্ট
  • বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
  • হঠাৎ মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া
  • পা ফুলে যাওয়া

হার্টের সমস্যায় কোন পরীক্ষাগুলো করাবেন?

১. ECG (Electrocardiogram)

ECG হার্টের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম রেকর্ড করে। এটি হার্ট অ্যাটাক, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (Arrhythmia), এবং হার্টের পেশির সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। এটি ব্যথামুক্ত, মাত্র ৫ মিনিটে হয়ে যায় এবং খরচও তুলনামূলক কম।

২. Echocardiography (Echo)

Echo বা Echocardiogram হলো হার্টের আলট্রাসাউন্ড। এতে হার্টের ভালভ, পাম্পিং ক্ষমতা, এবং হার্টের আকার সরাসরি দেখা যায়। ECG-তে সমস্যা পাওয়া গেলে বা হার্ট ফেইলিওর সন্দেহ হলে Echo করা হয়।

৩. Lipid Profile

Lipid Profile রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা মাপে। উচ্চ LDL কোলেস্টেরল ধমনীতে চর্বি জমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ৩৫ বছরের পর থেকে বছরে একবার Lipid Profile করানো উচিত।

  • Total Cholesterol: ২০০ mg/dL-এর নিচে ভালো
  • LDL (খারাপ কোলেস্টেরল): ১০০ mg/dL-এর নিচে আদর্শ
  • HDL (ভালো কোলেস্টেরল): পুরুষে ৪০, মহিলায় ৫০ mg/dL-এর উপরে ভালো
  • Triglycerides: ১৫০ mg/dL-এর নিচে স্বাভাবিক

৪. ETT (Exercise Tolerance Test / Stress Test)

ETT বা স্ট্রেস টেস্টে ট্রেডমিলে হাঁটানোর সময় ECG করা হয়। বিশ্রামে হার্ট স্বাভাবিক থাকলেও পরিশ্রামের সময় সমস্যা ধরা পড়তে পারে। বুকে ব্যথার কারণ খুঁজতে এবং Coronary Artery Disease নির্ণয়ে ETT গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদরোগ প্রতিরোধে যা করবেন

  • ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করুন।
  • রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • নিয়মিত হাঁটুন — দিনে ৩০ মিনিট।
  • তেল, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান।
  • বছরে একবার Lipid Profile ও ECG করান বয়স ৪০-এর পর।